LOADING

Type to search

কাশ্মীর ট্যুর প্ল্যান

কাশ্মীর ট্যুর প্ল্যান

Martin 23/05/2018
Share
Spread the love
  • 71
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    71
    Shares

আমাদের মতো লো-বাজেটের ট্যুর যারা পছন্দ করেন কাশ্মীর অনেকটা সুইজারল্যান্ড এর মতো..সেই ৩-৪ মাস আগে থেকে প্ল্যান করে,কে কে যাবো ঠিক করে,বাসার হাজার রকমের বাধা পার করে অবশেষে মে মাসের ৪ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত আমরা ৪ জন ঘুরে এলাম কাশ্মীর..যতই প্ল্যান করি সব প্ল্যানের মধ্যেই লক্ষিন্দরের বাসর ঘরের মতো একটা না একটা খুত থেকেই যায়..আমরা সবাই যেহেতু প্রথমবার ইন্ডিয়া যাচ্ছিলাম,অভিজ্ঞতা ছিল একদম শূন্যের কোঠায়..কাশ্মীর থেকে একদম অভিজ্ঞতা প্ল্যাটার নিয়ে আসছি বলা যায়..

আমাদের ট্যুর প্ল্যান ছিল বাই রোড/রেল..যেহেতু যাওয়ার ডেট টা ফিক্সড ছিল না তাই এয়ার অপশন বাদ..আর instant টিকেট কাটতে গেলে খরচটাও বেশী পড়ে..

Day-1: ঢাকা থেকে আমরা এপ্রিলের ২৭ তারিখ রাতে কলকাতা রওনা করি গেদে বর্ডার দিয়ে..ওখান থেকে আমার আত্মীয়ের বাসায় যাই…তারপর টিকিট কাটার পালা..৩০ তারিখ বিকেল নাগাদ আমরা যাই ফেয়ারলি  প্লেসে টিকিট কাটার জন্য..আমরা জানতাম সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা খোলা থাকে ওদের ফরেইন কাউন্টার..কিন্তু ৫ টায় গিয়েই বন্ধ পেলাম..তো অগত্যা কলকাতা শহর চক্কর মেরে বাসায় ফিরে আসলাম..

ডাল লেকে_কাশ্মীর

DAY-2: খূব  সকাল সকাল চলে গেলাম আবার ফেয়ারলি প্লেসে..গিয়ে দেখলাম ফরেনার(মূলত বাংলাদেশী) দের মধ্যে আমরাই jammu-tawi এক্সপ্রেস এর টিকিট কাটতে আসছি..যাই হোক,যখন আমাদের টিকিট কাটার সময় আসলো প্রথম শকটা খেলাম ওখানে..jammu-tawi আর himgiri express এই দুইটা ট্রেনই জম্মু যায় কিন্তু একটাতেও ফরেন কোনো কোঠা নেই..ইন্ডিয়ানরা যেভাবে টিকিট কাটে আমাদেরও সেভাবে কাটতে হবে..মানে আমরা চাইলে অনেক আগে থেকেই টিকিট বুক করে রাখতে পারতাম..পরে নরমাল কাউন্টারে গিয়ে দেখি টিকিট নাই..ঠিক করলাম দিল্লি হয়ে যাই,কিন্তু ফরেন কাউন্টারে গিয়ে দেখি দিল্লির টিকিটও শেষ..এখন একটাই উপায় tatkal(তৎকালীন) টিকিট কাটা..এটার মানে হলো যাওয়ার ২৪ ঘন্টা আগে ওরা টিকিট ছাড়ে..যেটা কিছু মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়…সেটা হয় যাওয়ার আগের দিন সকাল ১১.০০ টায়..তো ওইদিনও কলকাতা ঘুরে চলে এলাম বাড়িতে..

ডাল লেকে_কাশ্মীর

DAY-3 : ওইদিন সকালে আমাদের মধ্যে একজনের আত্মীয়ের through তে agent এর মাধ্যমে tatkal হিমগিরি এক্সপ্রেসে টিকিট পেলাম non ac 3 tier এ..যেটা কোনো ভাবেই আপনি comfortable বলতে পারবেন না..তবু আমাদের এটাই সোনার হরিন তখন..টিকিটের মূল্য ৯০০ রুপি পারসন..আর agent কে পার টিকিটে ৩০০ টাকা বেশী দিতে হয়েছিল..আমাদের ট্রেন ছিল পরের দিন রাত ১১ টায়..যেহেতু ইন্ডিয়াতে আমার ক্লোজ রিলেটিভ থাকে তাই থাকা নিয়ে চিন্তা করতে হয় নি..ঘুরে ফিরেই কাটিয়ে দিলাম..

DAY-4,5,6 : তিন দিন একসাথে দেয়ার কারন হলো day 4 এ রাত ১১ টায় ট্রেনে ওঠার কথা..কিন্তু পরে শুনি ট্রেন ৯ ঘন্টা লেট..কপাল ছিল এক একখানা আমাদের..day 5 এ সকাল ৮.৩০ এ ট্রেন ছাড়ে..শুরু হলো ম্যারাথন জার্নি..কলকাতা থেকে জম্মু সময় লাগে ৪০-৪৫ ঘন্টা..non ac 3 tier এ ঝামেলাগুলো হলো ১.গরম ২.বিভিন্ন স্টেশনে যখন থামে লোক গুলা উঠে বসতে চায় বাচ্চা-কাচ্চা সহ..মানা করলে বলে “থোরা adjust কর লিজিয়ে” অথবা “জাদা দূর নেহি জায়েংগে..বাস ৩০ মিনিট” এই বলে ৬-৭ ঘন্টা বসে থাকে..তো ঝামেলে এরানোর উপায় হিসেবে পরের দিন খুবই রুড হয়েছিলাম+সিট গুলো ফিক্স করে শুয়ে ছিলাম..ট্রেনে ডাল,ভাত, ডিম,মাছ সব পাওয়া যায়..ইন্ডিয়ানরা কিন্তু ডিম বলতে ডাবল ডিম বোঝে .. যাই হোক অনেক কষ্ট সহ্যের পর day 7 মানে মে মাসের ৪ তারিখ সকাল বেলা জম্মু..

কাশ্মীর-Ovijatrik

Day7: taxi আগে থেকে ঠিক করা ছিল এক পরিচিতর মাধ্যমে..এসে নিয়ে গেল স্টেশন থেকে..গন্তব্য শ্রীনগর..রোডটা ৪ লেনের হচ্ছে..জম্মু থেকে অর্ধেক আর শ্রীনগর থেকে অর্ধেক রাস্তা ফাটাফাটি..বাকি টুকু পথ সুবিধাজনক না..খুবই দূর্ঘটনা প্রবন..একবার জ্যামে পরলে ছাড়তে খবর হয়ে যায়..কিন্তু ভাই যে ভিউ পাওয়া যায় যাবার পথে ওইটার জন্য এটুকু রিস্ক বেশী না..দুইটা টানেল পাওয়া যায়,এর মধ্যে একটা ৯ কিমি লম্বা..প্লেনে যারা যায় হয়তো কম্ফরটেবলি যায়,কিন্তু এই ভিউ,থ্রিলিং ব্যাপারটা পাবে না..মাঝে একটা যায়গা আছে নাম শয়তানী নালা..প্রচুর পাহাড় ধস হয় ওইটুক যায়গা দিয়ে তাই এমন নাম..যাই হোক,মাঝখানে ২ ঘন্টার জ্যামে পরার কারনে প্রায় ৮ ঘন্টা লাগলো শ্রীনগর যেতে..আমরা ডাল লেকের পাশে একটা হোটেলে উঠেছিলাম..নাম hotel heeposh..৪ জনের জন্য ২ রুম ৯০০ টাকা করে ১৮০০ টাকা..ভালোই ছিল হোটেল..ছিল গরম পানির ব্যবস্থা..ওই দিন রাতে শ্রীনগর শহরটা হাল্কা চক্কর দিয়ে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পরলাম,যেহেতু খুব টায়ার্ড ছিলাম..

Day-8: সকাল সকাল বেড়িয়ে পরলাম সোনমার্গ এর উদ্দেশ্যে..পথে নাস্তা করে নিলাম..ওখানকার নিয়ম হচ্ছে আপনাকে ট্যাক্সি করে স্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে হবে..তারপর ওখান থেকে গাড়ি/ঘোড়া ভাড়া করতে হবে..zero point,মানে লাদাখের শুরু(সব সময় ওখানটায় zero ডিগ্রী থাকে) পর্যন্ত যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করতেই হবে..ওখানেই আসল মজাটা পাওয়া যায়..অনেক রকম রাইডও আছে..ঘোড়াতে সাইট সিইং করতে পারবেন শুধু.৪ জনের জন্য গাড়ি ভাড়া করলাম ৬৫০০ টাকায়..এর সাথে ড্রেস/বুট ইনক্লুডিং..সোন্মার্গের মেইন স্টপেজ থেকে  রাস্তাটা ওয়ার্ল্ডের সবথেকে রিস্কি রাস্তাগুলোর মধ্যে একটা..অন্যরকম একটা থ্রিলিং ব্যাপার কাজ করে তখন সবার মধ্যে..আর ভিউ!আমার মনে হয় না এর থেকে সুন্দর যায়গা কখনো দেখবো আমি..ওখানে নেমে স্লেজ গাড়িতে কিছু সময় বরফের মধ্যে চিল করে নিলাম..রাইডগুলো ঠিক করার সময় অবশ্যই যে ড্রাইভারের সাথে যাবেন তার সাথে কন্সাল্ট করে নিবেন..ট্যুরিস্ট এরিয়া যেহেতু আপনার কাছ থেকে যতো খসাতে পারবে খসাবে..ওখান থেকে ফিরে কিছু গার্ডেনে ঘুরলাম..গার্ডেন গুলো অনেক বড় আর এতো সুন্দর যে চোখ জুড়িয়ে যায়..এভাবেই সন্ধ্যা হয়ে গেল.. রাতে খেয়ে শুয়ে পড়লাম..

botanical garden_kashmir_ovijatrik

DAY-9: সকাল সকাল একটা খারাপ খবর..স্ট্রাইক চলছে শ্রীনগরে..সাথে পেহেল্গামের অবস্থাও খারাপ..গোলাগুলি চলছে..সাথে বিষফোঁড়া হিসেবে বৃষ্টি..তবু বেড়িয়ে পরলাম..শহর ঘুরবো বলে..প্রথমে গেলাম শিব মন্দিরে..২৬০ টা সিড়ি পেরিয়ে উঠতে হয়..অনেক সুন্দর একটা যায়গা..এরপর গেলাম বোটানিকাল গার্ডেনে,তারপর চাশ্মিশা গারডেন..এখানে অনেক বিশুদ্ধ জল পাওয়া যায়..এখান থেকেই  prime-minister এর জন্য জল যায়..আমরাও পিপাসা মিটিয়ে নিলাম..এভাবে বিকেল হয়ে গেল..গেলাম ডাল লেকে,শিকার রাইডিং এর জন্য..আনলিমিটেড সময়ের জন্য ভাড়া করলাম ২৭০০ টাকায়.এখানেও কিছু দেখার যায়গা আছে..কিছু সুটিং স্পট,গার্ডেন,floating market..ওখান থেকে কেনাকাটা করে রাত ১০ টার দিকে ফিরলাম..

Day -10: গন্তব্য গুল্মার্গ.. সকাল থেকে বৃষ্টি,সাথে strike চলছে.. এখানেও সোন্মার্গের মতো গাড়ি একটা স্টেশন পর্যন্ত যায়..পরে আবার গাড়ি ভাড়া করতে হয়..আমরা ১৭০০ রুপিতে গাড়ি ভাড়া করলাম একদম gondola রাইডে যাওয়ার আগ পর্যন্ত..আফসোস এখানেও..ওয়েদার খারাপ তাই gondola বন্ধ..ঘোড়ায় করেও ঘুরে বেড়ানো যায়..কিন্তু ওয়েদার এতো খারাপ,আর এতো ঠান্ডা কিছুই করার ছিল না..যে গাড়িতে করে আমরা গিয়েছিলাম ওনাকেই convince করে যে যায়গা গুলো ঘোড়ায় ঘুরতাম সেউ যায়গা গুলো গাড়িতেই ঘুরেছি..এক্সট্রা হিসেবে চা সিগারেট খাইয়েছিলাম আর কি..তারপর একটা mall এ গিয়ে কেনাকাটা করে হোটেলে ফেরত আসলাম..

Day 11: ফেরার পালা এবার..যেহেতু পেহেল্গাম যেতে পারলাম না,পরিস্থিতি খুবই খারাপ, সকালে উঠে আবার আগের মতো জম্মু ফিরে আসলাম..ওখান থেকে ট্রেনে কলকাতা..

গাড়ি ভাড়া-ড্রাইভারকে ট্যুর বাবদ জম্মু থেকে আবার জম্মু দিয়েছিলাম ১২০০০ টাকা..

খাওয়া-দাওয়া :যে যেমন খায় আর কি..তাই হিসাব দিলাম না..আমরা খাওয়া নিয়ে অতো মাথা ঘামাই নি..তবে কাশ্মীরের কাবাব আইটেম খুব মজার..

সব মিলিয়ে পার পারসন ১৪-১৫ হাজার রুপি তে শেষ হয়েছিল..আমরা টিউলিপ গার্ডেন দেখতে পারি নি..এপ্রিলের ২৮ তারিখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল..কাশ্মীর যাওয়ার উপযুক্ত সময় মার্চ থেকে অক্টোবর..শীতের সময় রাস্তাঘাট বন্ধ থাকে..তবে বরফ আর স্নো-ফল দেখতে চাইলে ভিন্ন কথা..পর্যাপ্ত শীতের কাপর নিয়ে যাবেন..আর মোবাইল নেটোয়ার্ক জম্মু -কাশ্মীরের জন্য ভিন্ন..আমরা ড্রাইভারের থেকে সিম ম্যানেজ করেছিলাম..যদিও স্ট্রাইকের কারনে কোনো ইন্টারনেট ছিল না শ্রীনগরে..

যেহেতু প্রথম বার,অনেক ভুল-ত্রুটি ছিল..পরের বার এগুলো নিয়ে সচেতন থাকব..

পরিবেশের প্রতি যত্নবান হোন..হ্যাপি ট্রাভেলিং

 

আপনিও শেয়ার করুন আপনার মজার মজার সব ভ্রমণ কাহিনী সবার সাথে। হয়ে যান একজন লেখক।

লিখুন এখানে

কাশ্মীর


Spread the love
  • 71
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    71
    Shares
Tags:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *