LOADING

Type to search

কেরালা দর্শন- (১ম পর্ব)

কেরালা দর্শন- (১ম পর্ব)

Arjya 10/07/2018
Share
Spread the love
  • 618
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    618
    Shares

সিদ্ধান্তটা হঠাৎ করেই নিলাম। যেহেতু হাতে সময়-সুযোগ দুটোই আছে, তাহলে আর কেন দোনামনা বা অপারগতা? তাই চিন্তাকে দ্রুত কর্মে রূপ দেয়ার মিশনটা এভাবেই শুরু হলো-

#১ম_দিন: দিল্লীতে তখন শীতে কাবু হয়ে দিন পার করছি। তাই কেরালার ওয়েডার কেমন ঠাণ্ডা তা জানার জন্য গুগল মামার আশ্রয় নিলাম। দেখলাম, সেখানে যথেষ্ট গরম। তাই আর গরম কাপড় কিছুই নিলাম না। কিন্তু আমার সঙ্গীটি তা না জেনে গরম কাপড় নিলো, সেখানে পৌঁছার একটু আগে কাপড় গায়ে জড়ালো। ফলাফল কয়েক মিনিট পর সব খুলে ফেলার উপক্রম 🤯 ।

#লাভ_এট_ফার্ষ্ট_সাইট: প্রেমে পড়ার মতো না হলেও বলতে হয় ভাল লেগেছিল। বলছিলাম, ট্রেন স্টেশনের কথা। সাধারণত ট্রেন স্টেশন বললে আমাদের চোখে যে দৃশ্যগুলো ভেসে উঠে তা হলো- ভেজা, ছ্যাঁতছ্যাঁতে, মল, ময়লা-আবর্জনা, সাথে টোকাই-ভিক্ষুকদের অহর্নিশ যন্ত্রণা। কিন্তু এনারকুলাম/কোচি ট্রেন স্টেশনটি সেদিক থেকে যথেষ্ট বিপরীত। পরিষ্কার, ছিমছাম, হকার-টোকাইয়ের দৌরাত্মবিহীন। তাই প্রথম দর্শনেই একটা ভাল লাগা কাজ করেছে।

কেরালা

#১ম_দিনের_গন্তব্য: ৫ দিন ৪ রাতের টার্গেট নিয়েই আমরা বের হয়েছিলাম। প্লানটা এমনভাবে করেছিলাম যাতে কেরালায় পা দেয়ার পর থেকে একটা মুহূর্ত নষ্ট না হয় এবং প্রথম দিনের গন্তব্য বেছে নিয়েছিলাম আতিরাপল্লী ঝর্ণা, মেরিন ড্রাইভ, ফোর্ট কোচি। স্টেশনে আগে থেকেই আমাদের এক পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষী অপেক্ষায় ছিল। স্টেশন থেকে বের হয়ে প্রথমে হালকা নাশতা সারলাম, তারপর একটা প্রাইভেট কার ঠিক করে আতিরাপল্লী অভিমুখে…

#আতিরাপল্লী: আতিরাপল্লী ঝর্ণার নাম না শুনলেও বাহুবলীর নাম তো শুনেছেন। হ্যাঁ, এটাই বাহুবলী ছবির সেই বিখ্যাত ঝর্ণা। ১৫ রূপি করে টিকিট কেটে ভিতরে গেলাম এবং প্রকৃতির রূপসুধা পান করতে লাগলাম। এ কেবল অনুভবের বিষয়, শব্দ এখানে অসম্পূর্ণ, বড়ই বেমানান। তাই তার রূপ বর্ণনাতে আর যাচ্ছি না।

কেরালা

#মেরিন_ড্রাইভ: ঝর্ণার অমিয় আকর্ষণকে প্রবল অনিচ্ছায় ত্যাগ করে সেখান থেকে বের হয়ে পেটপূজোর কাজটা সেরে নিলাম। এবার এনারকুলাম শহরে ফেরার পালা। শহরে ফিরতে ফিরতে প্রায় তিনটা। ডাইরেক্ট মেরিন ড্রাইভ। সেখানে কিছুক্ষণ সাগরের রূপ দর্শন করে পাশের নেতাজি সুভাষবসু পার্কে একটু হেঁটে গেলাম দ্বীপদূর্গের ফোর্ট কোচিতে। যাওয়ার জন্য বেছে নিলাম বোট। বোট ঘাট থেকে ৫/১০ রূপির (মূল্যটা মনে করতে পারছি না) টিকিট কেটে আধা ঘন্টার ব্যবধানে ফোর্টকোচি পৌঁছে গেলাম। গাড়ি দিয়েও যাওয়া যায়, তবে এতে খরচও বেশি আর ভ্রমণটাও গতানুগতিক। তারচেয়ে বোটে করে গেলে একটা আলাদা ফিল অনুভব করতে পারবেন।

আরও পড়ুন লাভার বৃষ্টি বিকেল… (বৃষ্টিকে স্বাগত)

#ফোর্ট_কোচি: আমাদের রাত্রে থাকার গন্তব্য এই ফোর্ট কোচি। ব্যক্তিগতভাবে কোচিতে গেলে ফোর্টকোচিকেই থাকার জন্য বেষ্ট বলবো যদি আপনি নির্জনতা প্রিয় হন। এখানে অনেক গেষ্ট হাউস রয়েছে মোটামুটি মানের (৭০০-১০০০ ডাবল/নাইট) যেখানে আপনি দক্ষিণ ভারতীয় স্বাদ পাবেন। ফোর্ট কোচিতে পৌঁছে ব্যাগ রেখে নামলাম আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে। প্রথমে গেলাম চার্চে, তারপর বিখ্যাত চাইনিজ ফিশিং নেট এবং তারপর St Francis CSI Church যেখানে ভাস্কো দা গামা এসে উঠেন। এভাবে দেখতে দেখতে সন্ধ্যা। তারপর রুমে ফেরা…

Santa Cruz Cathedral Basilica

#কিছু_কথা: বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ মানুষ সিমলা/মানালী/লাদাখ অথবা দার্জিলিং এসব জায়গায় বেশি যায়। দক্ষিণ ভারতে কম যায়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তাদেরকে আমার যথেষ্ট সৎ এবং বিনয়ী মনে হয়েছে। যেখানেই গেছি কালো রঙের মুখটায় সবাই এক উজ্জ্বল-শুভ্র প্রাণরসে ভরপুর হাসি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে। তাই যারা ভ্রমণপ্রিয় তারা ভারতের এইদিকটাও দেখে আসতে পারেন।

…..(২য় দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছি পরের পোষ্টে…)

কেরালা


Spread the love
  • 618
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    618
    Shares
Tags:

You Might also Like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *