LOADING

Type to search

ইতিহাসের খোঁজে আমের দেশে-চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ইতিহাসের খোঁজে আমের দেশে-চাঁপাইনবাবগঞ্জ

Ariful 07/07/2018
Share
Spread the love
  • 113
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    113
    Shares

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নামের মাঝেই একটা নবাবি ভাব অন্তর্নিহিত । কেননা জেলাটি নবাবের মতই একদিকে যেমন ধারণ করে আছে ঐতিহাসিক গৌড় রাজ্যের বিখ্যাত মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন ও ইতিহাস অপরদিকে রয়েছে চাঁপায়ের ঐতিহ্য আম । যাকে বলা হয় আমের দেশ। হ্যাঁ এবার আমার গন্তব্য আমের দেশ।

রাতের বাসে চেপে সোজা চাঁপাই। চাঁপাই নেমে কানসাটে বন্ধুর বাড়িতে ফ্রেশ হয়ে বিখ্যাত কালাইয়ের রুটি ও আম দিয়ে নাস্তা করে হালকা বিশ্রাম। সিদ্ধান্ত নিলাম আগে বের হব ইতিহাসের খোঁজে …

প্রথমে গন্তব্য সোনামসজিদ স্থল বন্দর । কানসাট থেকে স্থল-বন্দরের দূরত্ব ১৪ কিঃমিঃ। পিচ ঢালা পথের দুপাশে চোখে পড়বে প্রচুর আমগাছ। মনে হবে যেন আমগাছের অরণ্য। যতই বন্দরের দিকে যাচ্ছি ততই যেন দুপাশের অরণ্য গভীর হচ্ছে । দুপাশ দেখতে দেখতে চলে আসলাম সোনামসজিদ স্থল বন্দরে। যার অপরদিকে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মালদহ্ জেলার মহদীপুর স্থল-বন্দর। ঈদের ছুটি থাকায় বন্দরে কর্মব্যস্ততা নেই। বন্দরের শূন্য রেখায় দাঁড়িয়ে চোখ পড়লো ভারত সীমান্তে ঐতিহাসিক কতোয়াল দরজা। জনশ্রুতি আছে মুসলিম সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ -বিন বখতিয়ার খিলজি এই পথ ধরে পূর্ব বাংলা আগমন করেন।

আরও পড়ুন বগা লেকে এক রাত

বন্দর থেকে পায়ে হেঁটে ১০ মিনিটের পথ, চলে আসলাম ভারতের চামচিকা মসজিদের অনুকরণে তৈরি প্রাচীন চামচিকা বা খনিয়াদীঘি মসজিদে। বিশাল আমবাগানের মাঝখানে ছোট একটি মসজিদ। মসজিদের দেয়ালে অসাধারণ কারুকাজ। মসজিদের সামনে খনিয়াদীঘি নামে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি দিঘি। খনিয়াদীঘি পাশে হওয়ায় এটাকে খনিয়াদীঘি মসজিদও বলা হয়।

DSC_0402-01

প্রাচীন চামচিকা বা খনিয়াদীঘি মসজিদ

স্থল বন্দর থেকে কানসাটের দিকে ফিরতি পথে অল্প কিছুদূর আসতে রাস্তার ডানপাশে চোখে পড়লো দারাসবাড়ী মাদ্রাসা ও মসজিদ লেখা সাইনবোর্ড। মূল সড়ক থেকে কাঁচা মাটির রাস্তা ধরে পৌঁছে গেলাম দারাসবাড়ী মসজিদে। এই মসজিদটিও আমবাগানের ভেতরে বড় জায়গা নিয়ে অবস্থিত। মসজিদটি বর্তমানে পরিত্যক্ত । দরজা, জানালা এমনকি উপরে ছাদও নেই। শুধু উঁচু দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে রয়েছে দারুণ কারুকাজ সম্বলিত নকশা। ধারনা করা হয় ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই নির্দেশে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়।

দারাসবাড়ী মসজিদের ১৫০মিঃ পূর্ব দিকে দারাসবাড়ী মাদ্রাসার অবস্থান। আমবাগানের ভেতর দিয়ে পায়ে হেঁটেই চলে আসলাম। মজার ব্যাপার এই স্থাপনাটির চারপাশেও আম বাগান। বিশাল স্থাপনাটির ধ্বংসাবশেষের উঁচু দেয়ালে পোড়া মাটির ফলক ও নকশা । জানা যায় খ্রিঃ ১৫০৪ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্ এর আমলে নির্মিত হয়। ধারনা করা হয় এটিই দেশের সচেয়ে প্রাচীন মাদ্রাসা।

আরও পড়ুন দিল্লী -এক অপূর্ব বিমানবন্দর এর গল্প

এবার আমরা আসলাম তাহখানা কমপ্লেক্স। ধরনা করা হয় কমপ্লেক্সটির নির্মাতা মুঘল সুবাহদার শাহ সুজা ১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিঃ। কমপ্লেক্সটির পেছনে রয়েছে বিশাল দাফিউল বালা দিঘি। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র বাংলার সুবেদার শাহসুজার সময় এটি খনন করা হয়। দিঘির পাশেই রয়েছে তিন গম্বুজ মসজিদ এবং সাধক হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহ (রহঃ)এর মাজার । সুলতান শাহ সুজার রাজত্বকালে তিনি দিল্লী থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এখানে আসেন। মাজারের সামনে একটি লম্বা পাথর রয়েছে স্থানীয় মানুষ যাকে নাম দিয়েছে জিন্দা পাথর। তাদের মাঝে কুসংস্কার রয়েছে যে পাথরটি প্রতিবছর আকারে বৃদ্ধি পায়।

এবার গন্তব্য তাহখানা কমপ্লেক্স থেকে অর্ধ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং স্থল বন্দর -কানসাট সড়কের পাশে ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ । ধারনা করা হয় সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর রাজত্বকালের(১৪৯৪-১৫১৯) এটি নির্মিত হয়। সোনা মসজিদ কমপ্লেক্স এর ভেতরে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।

সোনা মসজিদ_চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সোনা মসজিদ এবং সামনে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর সমাধি

সোনামসজিদ থেকে আমরা সোজা চলে আসলাম কানসাট বাজারে। উদ্দেশ্য কানসাট জমিদারবাড়ি দর্শন। বাজারের মাঝখানে ছোট একটি বাড়ি, চারপাশে অবহেলার ছাপ। দেখে মনে হচ্ছে যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়বে। এরা ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার জমিদার সূর্য্যকান্ত, শশীকান্ত ও শীতাংশুকান্ত এই বংশের অধঃস্তন বংশক্রম । এরা ছিল মুসলিম-বিদ্বেষী ও অত্যাচারী জমিদার।

রাজ্য ও রাজত্ব চিরস্থায়ী নয়। কানসাটের জমিদার তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। একদিন অত্যাচারী রাজার রাজত্বের সূর্যাস্ত যায়, নতুন সূর্যোদয় হয়। আমারও সময় শেষ, সূর্য পশ্চিম আকাশে অস্থ মান। কানসাট জমিদারবাড়ি থেকে আমিও ছুটে চললাম আমার আপন পথে।

কীভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কানসাট বাজার । কানসাট থেকে বাসে বা লেগুনায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর। বন্দর থকে অটো রিজার্ভ করে সবগুলো স্পট ঘুরে সোনামসজিদ এসে অটো ছেড়ে দিন। সোনামসজিদ থেকে লেগুনায় বা বাসে কানসাট বাজার।

চাপাইনবাবগঞ্জ


Spread the love
  • 113
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    113
    Shares
Tags:

1 Comments

  1. Asik 03/10/2018

    আমি এই জেলার এক কিংবদন্তি!!!
    সবাইকে আমন্ত্রন রইল,আমের দেশে….

    Reply

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *