LOADING

Type to search

দার্জিলিং টুর A to Z খরচ সহ।

দার্জিলিং টুর A to Z খরচ সহ।

Share
Spread the love
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

দার্জিলিং, পশ্চিবঙ্গের বিখ্যাত টুরিস্ট প্লেস 🙂
এই পোস্টে পাবেন দার্জিলিং ঘুরার পুর্নাঙ্গ গাইডলাইন
(যাওয়ার উপায়, থাকা খাওয়া, কেনাকাটা সবকিছু)

যাবো কিভাবে দার্জিলিং 
সহজ যাবার দুইটি রাস্তা আছে একটি বেনোপাল যশোর দিয়ে আর আরেকটি হলো পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা বর্ডার দিয়ে ।
যদি বেনোপাল হয়ে যান তাহলে আপনাকে কলকাতা থেকে ৫৫৮ কিমি দুরে আবার শিলিগুড়ি যেতে হবে আর যদি আপনি বাংলাবান্ধা বর্ডার দিয়ে যান তাহলে ভারতে ঢুকার পরই আপনি শিলিগুড়ি পৌছে যাবেন ।। বাংলাবান্ধা বর্ডারটা নতুন চালু হয়েছে যারা দার্জিলিং যাবেন তাদের জন্য বাংলাবান্ধা বর্ডার বেস্ট আর যারা দার্জিলিং এর সাথে কলকাতাও ঘুরে যেতে চান তারা বেনোপাল যশোর বর্ডার দিয়ে যাওয়া ভালো হবে ।।
এমন চা বাগানের মাঝ দিয়ে রাস্তা আপনাকে মুগ্ধ করবে ,গাড়ী দাঁড় করিয়ে ছবি নিতে ভুলবেন না। শিলিগুড়ি শহর থেকে ৭৫ কিমি দুরে দার্জিলিং আপনি রিজার্ভ গাড়ী ১৫০০ রুপিতে পাবেন অথবা শেয়ার করেও যেতে পারেন প্রতিজন ১৫০ রুপি করে নিবে ।। যেটাতে ইচ্ছা সেটাতেই যেতে পারেন ।।
একেবেকে পাহাড়ী রাস্তার অপরুপ সব দৃশ্য উপভোগ করতে করতে কখন যে দার্জিলিং শহরে পৌছে যাবেন বুঝতেই পারবেন না 🙂 পাহাড়ের কোলে অসম্ভব সুন্দর শহর দার্জিলিং ।।

থাকার ব্যবস্হা কোথায় ?
দার্জিলিং আসার পর আপনার প্রথম কাজ কি ? অবশ্যই আগে একটা ভদ্র সুশিল আরামদায়ক মজাদার থাকার হোটেল তাইনা?
দার্জিলিং এ আপনি সস্তা থেকে শুরু করে লাক্সরিয়াস হোটেলও পাবেন ।। তবে আমার মতো অধিকাংশদেরই প্রথম পছন্দ মাঝারি মানের তাইনা ? বেশি দামিওনা আবার একেবারে কমদামি সস্তা হোটেলও না ।।
দার্জিলিং এ একটা ট্রাফিক মোড় আছে এটাই শহরের মধ্য পয়েন্ট এর চার দিকে চারটা রাস্তা চলে গেছে আপনি চারটা রাস্তাতেই হোটেল পেয়ে যাবেন ।। দেখে শুনে বাজেট অনুযায়ী হোটেল নিয়ে নিন ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে রাস্তাগুলো ধরে যত ভিতরে যাবেন ততই কমদামে হোটেল পাবেন ।। যদি ঠান্ডা বেশি থাকে তাহলে হোটেলে গরম পানির ব্যবস্হা আছে কিনা জেনে নিবেন। আমরা ট্রাফিক পয়েন্টের সাথেই হোটেল একটা হোটেলে পাঁচজন বড় একটা রুমে ছিলাম ১৮০০ রুপিতে ।।

ঘুরবো কোথায় দার্জিলিং
ঘুরোঘুরির জন্য অসম্ভব সুন্দর জায়গা হলো দার্জিলিং ,সবগুলো প্লেস আরাম করে দেখার জন্য দেড় / দুইদিন যথেষ্ট ।। চাইলে একদিনেও প্রধান প্রধান টুরিস্ট প্লেসগুলো কভার করা সম্ভব ।। আমরা কিন্তু একদম ভোর থেকে শুরু করে সন্দ্যার মাঝে একদিনেই শেষ করেছিলাম কারণ আমাদের সময় কম ছিলো ।।
টুরিস্ট প্লেসগুলোর অধিকাংশই শহরের আশে পাশে তাই জার্নি কমই লাগবে 🙂 প্রধান প্রধান টুরিস্ট স্পটগুলো।
 টাইগার হিল -১০ হাজার ফুট উচু এখানে সবাই খুব ভোরে গাড়ীতে যায়,কান্জনজজ্ঞাতে সূর্যোদয় দেখার জন্য ।
 অসাধারণ হিমালিয়ান মাউন্টরিং ইন্সটিটিউট এবং চিড়িয়াখানা
 চা বাগান আর পাহাড়ের উপর দিয়ে ক্যাবল কারে ৪৫ মিনিটের ভ্রমণ /রুপওয়ে
 চায়ের জন্য বিখ্যাত হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেন
 ছবির মতো সাজানো জাপানিজ ট্যাম্পল
 টয় ট্রেন যেখানে মোড় ঘুরে সেই বাতাশিয়া লুপ
 প্রার্থনা কেন্দ্র ঘুম মনেস্ট্রি
 দিরদাহাম টেম্পল
 গঙ্গামায়া পার্ক
 রক গার্ডেন
 দার্জিলিং এর গোরখা স্ট্রেডিয়াম
 দড়ি ধরে পাহাড় বেয়ে উঠার জন্য টেনজিং রক ও গুম রক ,এটা ট্রাই করতে পারেন মজার একটা অভিজ্ঞতা হবে
 রাজভবন
 জাপানিজ ট্যাম্পেল

টাইগার হিল -দার্জিলিং

এছাড়া আরও আছে টয় ট্রেনে জয় রাইড পুরো শহর টয় ট্রেনে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ তবে দামটা একটু বেশিই এক হাজার রুপি প্রতিজন ।। আমরা দাম শুনে না ঘুরেই চলে আসছি ।।
এটাকে বলে বাতাশিয়া লুপ ,এখানে টয় ট্রেন এসে ঘুরে যায়
এগুলোই মোটামুটি দার্জিলিং এ ঘুরে বেড়ানোর জায়গা ।। আপনি লিস্টটা ড্রাইভারকে দেখাবেন যে আপনারা প্রতিটা জায়গাতে যেতে চান ।। সে অনুযায়ী ভাড়া কত হয় । ।
যাদের হাতে বেশি সময় বা আরওএ ঘুরতে চান তারা একদিনের জন্য মিরিক লেক চলে যেতে পারেন গাড়ী রিজার্ভ করে অথবা কালিম্পংও ঘুরে আসতে পারেন ।।
প্রতিদিনের জন্য গাড়ী রিজার্ভ চারজন বসার মতো ১ থেকে দেড় হাজার আর আট/নয়জন বসার মতো ১৫০০ থেকে দুই হাজার রুপি সর্বোচ্চ ।।

ট্রেন রাইড-দার্জিলিং

ও আরেকটা কথা বলতেই ভুলে গেছি দার্জিলিং শহরের ভিতরে একটা চত্বর আছে নাম মল চত্বর /মল রোড এখানে বিশাল বসার স্হান ।। সবাই এখানে এসে আড্ডা দেয় । জায়গাটা পাহাড়ের উপরে ।। এখানে অবশ্যই ঘুরতে যাবেন রাতের বেলা ।। চমৎকার একটা জায়গা নানা ধরনের মানুষ আড্ডা দিচ্ছে গান গাচ্ছে ভালোই লাগবে ।। আমরা প্রতিদিন রাতে হোটেলে খেয়ে দেয়ে এখানে আড্ডা দিতাম ।

দার্জিলিং যাবার ভালো সময় কোনটা ?
দার্জিলিং এ একেক সময় একেক রুপ থাকে তবে দার্জিলিং ঘুরে আসার বেস্ট সময় হলো এপ্রিল টু জুন । এ সময় আবহাওয়া অনেক পরিষ্কার থাকে আর হালকা হালকা শীত অনুভুত হয় ।। বেস্ট সিজন এটাকেই বলা যায় এছাড়া বর্ষার শেষে সেপ্টেম্বর অক্টোবরেও যেতে পারেন । তারপর গেলে শীতের প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন ।। তবে কম দামে চমৎকার সব শীতের কাপড় পাবেন দার্জিলিং এ 🙂

খাবার দাবার
এ অংশটা লিখতে আমি মোটামুটি এক্সাইটেড কারণটা হলো দার্জিলিং এ খাবার দাবারের একটা টিপস আপনাকে আমি জানাবো ,দার্জিলিং এ সব ধরনের খাবার পাবেন তবে আমরা বাঙ্গালী মুসলিম যারা গরু ছাড়া খাবার দাবার জমেনা তাদের জন্য একটা স্প্রেশাল খাবারের দোকান আছে ।। দার্জিলিং এ মসজিদের পাশে মুসলিম হোটেল আছে নাম ইসলামিয়া হোটেল ,এখানে আপনি সস্তায় গরুর মাংশ খেতে পারবেন গরুর প্লেট মাত্র ৩০ টাকা কলিজি ২০ টাকা !!!!!! কম দামে ধুমাইয়া সুস্বাধু খেতে এর কোন বিকল্প নেই ।। আমরা সকাল সন্ধ্যা রাত সব বেলা এই হোটেলেই খেয়েছি ।। দার্জিলিং এ যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই হবে ভাই মুসলিম হোটেল কোথায় অথবা মসজিদটা কোথায় ।।

টি গার্ডেন

কেনাকাটা
কেনাকাটার জন্য দার্জিলিং খুব ভালো জায়গা বিশেষ করে শীতের কাপড় চোপড় জ্যাকেট ইত্যাদি কেনার জন্য ।। কম দামে খুব ভালো ভালো শীতের জ্যাকেট চাদর ইত্যাদি পাবেন । তবে দাম দর করে নিবেন এখানে প্রচুর দাম চায় । আমাকে একটা শীতের শাল দাম চেয়েছে ১২০০ রুপি আমি এনেছি ৩৫০ রুপি দিয়ে এবার বুঝুন অবস্হা ।।
ভাই সবতো বললেন এবার খরচটা বলেন ?
হুম এত ক্ষনে আসল কথা মনে পড়ছে সবতো বুঝলেন তাহলে ঘুরে আসতে কেমন খরচ হতে পারে তার একটা ছোট্র আইডিয়া দেই ।।
ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধা বর্ডার দিয়ে শিলিগুড়ি যেতে এক হাজার টাকা।।কলকাতা দিয়ে গেলে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি ৫শ থেকে ৬শ রুপি বাসা ভাড়া নিতে পারে ।।
শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পার হেড ১৫০ রুপি ভাড়া আর রিজার্ভ ১৫০০ রুপি ।।
দার্জিলিং এ গাড়ী রিজার্ভ প্রতিদিন ১২শ থেকে দুই হাজার রুপি ।।
থাকা মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ট মানের হোটেল প্রতিজন ৫শ থেকে ছয়শ রুপি ।।
দশ থেকে ১২ হাজার টাকার ভিতরে আপনি খুব ভালোভাবে ঘুরে আসতে পারবেন ।
এবার নিজেই নিজের মতো করে বাজেটটা করে নিন 🙂 আমি শুধু আপনার সুবিধার্থে একটা ধারনা দিলাম ।

দার্জিলিং


Spread the love
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares
Tags:

You Might also Like

2 Comments

  1. Tanveer H. 11/02/2018

    Nice and informative post. 🙂

    Reply

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *