LOADING

Type to search

ভেলোরে চিকিৎসা : জেনে নিন বিস্তারিত হাসপাতালের লিঙ্ক সহ

ভেলোরে চিকিৎসা : জেনে নিন বিস্তারিত হাসপাতালের লিঙ্ক সহ

Share
Spread the love
  • 829
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    829
    Shares

ভেলোরে চিকিৎসা এর  জন্য ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ভেলোর শহরের (India Vellore medical treatment) সিএমসি (ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ) ও শ্রী নারায়ণী হাসপাতালে বাংলাদেশের মানুষের আগমন বেশি।

বাংলাদেশ থেকে অনেক রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে যান। চলুন জেনে নিই ভারতের ভেলোরের চিকিৎসা সেবা নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য।ভারত যেতে আগে দরকার পাসপোর্ট। এরপর ভিসা, যা ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাবেন। 

এগুলো সংগ্রহ করে ভেলোর গিয়ে আপনার কয়েক কপি ছবি, পাসপোর্টের কয়েকটি ফটোকপি ও কলম সঙ্গে রাখুন। সময় পেলে আপনার সর্বশেষ ভিসার কয়েকটি ফটোকপি করে রাখুন। কারণ সিম কিনতে এগুলো কাজে লাগবে। চাকরি করলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটির লিখিত ডকুমেন্টের কয়েকটি ফটোকপি সঙ্গে রাখুন। যা বর্ডারে কাজে লাগতে পারে। বর্ডার পার হওয়ার সময় বাংলাদেশ সরকারকে ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে হয়। বর্ডারেই সেটা পেয়ে যাবেন।

কিভাবে যাবেন

আকাশ বা স্থল পথে যেতে পারেন। আকাশ পথে যেতে চাইলে আগে থেকেই ভিসায় উল্লেখ থাকতে হবে। বিমানে সরাসরি ভেলোর যাওয়া যায় না। ঢাকা থেকে চেন্নাই বিমানে যাওয়া যায়। তারপর বাস বা ট্রেনে ভেলোর।

বিমানের টিকিট আগে থেকে কেটে রাখলে খরচ কিছুটা কম হয়। স্থল পথে যেতে চাইলে দেখুন আপনার পাসপোর্টে ভারতে ঢোকার জন্য কোন বর্ডারের উল্লেখ আছে। যদি আপনি হিলি বর্ডার দিয়ে প্রবেশ করেন, তবে আপনি মালদা থেকে বা কলকাতা থেকে ট্রেন ধরতে পারেন।

আবার বেনাপোল বর্ডার দিয়ে কলকাতা যেতে পারেন। সেজন্য ঢাকা থেকে বেনাপোলের যেকোনো বাসে বেনাপোল নেমে বর্ডার পার হতে হবে। ওপারে পেট্রাপোল গিয়ে বাস, ট্রেন বা টেক্সিতে কলকাতা যাওয়া যায়।

সবচেয়ে সহজ ট্রেনে যাওয়া। খরচও কম। বনগাঁও ট্রেন স্টেশন থেকে শিয়ালদাহ স্টেশনের টিকিট কেটে ট্রেনে উঠবেন। আবার ঢাকা থেকে সরাসরি কলকাতার বাসেও যেতে পারেন। কলকাতা থেকে ভেলোরের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার।

কলকাতা বা মালদা থেকে সরাসরি ট্রেন আছে। আবার মালদা থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে চেন্নাই, চেন্নাই থেকে ভেলোর যেতে পারেন। ভারতে দূরের ট্রেনের টিকিট পাওয়া অনেক কষ্টের। ভারতে ট্রেনের যাত্রী অনেক বেশি। তবে ট্রেন ছাড়ার আগের দিন টিকিট কাটার একটি ব্যবস্থা আছে

কলকাতায় থাকবেন কোথায়?

টিকিট আগে থেকে কাটা না থাকলে কিংবা পেতে সময় লাগলে আপনাকে কলকাতাতে দুই এক রাত থাকতে হতে পারে। কলকাতার সব হোটেলই আপনাকে রাখতে পারবে না। তবে নিউ মার্কেটের আশে পাশের হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন । ঢাকার বাসগুলো যেখানে থামে সেখানে অর্থাৎ marquis street এ বেশ কিছু হোটেল আছে থাকবার মতো। সেখানে চেক আউট ( হোটেল ছাড়ার সময় ) টাইম দুপুর ১২টা। অর্থাৎ সেখানে দিন কাউন্ট হয় দুপুর ১২টা থেকে পরদিন দুপুর ১২টা। এবং হোটেল ভাড়া ৫০০, ৬০০, ৭০০ বিভিন্ন্ রকমের।

ট্রেনের টিকিট

ভারতে ট্রেনের টিকিট ইন্ডিয়ান রেলওয়ের  ওয়েবসাইট www.indianrail.gov.in থেকে সংগ্রহ করা যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই হয়তো সেটা কঠিন হবে। তাই এজেন্টের মাধ্যমে বা নিজে স্টেশনে গিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। ফরেনারদের ( বিদেশিদের ) জন্য ‘ততকাল’ নামে আলাদা একটি সুবিধা দিয়ে থাকে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে। আলাদা কিছু সিট রাখা হয় বিদেশিদের জন্য।

এই টিকিট কলকাতায় ফেয়ারলি প্লেসে দেওয়া হয়। এখানে আপনার পাসপোর্ট নিয়ে হাজির হলে টিকিট পেয়ে যাবেন। তবে সকাল সকাল এলে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ততকালে টিকিটের দাম একটু বেশি। ক্যান্সার রোগি এবং তার এটেন্ডেন্টের জন্য টিকিটে ছাড় আছে।

ট্রেনের টিকিট করার সময় আপনার কাছে ট্রেনের নম্বর জানতে চাইতে পারে। নম্বর জানতে চাইলে www.indianrail.gov.in/between_Imp_Stations ভিজিট করুন। অনেক সময় দেখা যায়, প্রথমে আপনার সিট না-ও হতে পারে, পরে আবার হয়ে যায়। ওয়েটিং লিস্ট দূরে থাকলে রিস্ক হয়ে যায় সিট কনফার্ম হতে।

যে প্লাটফর্মে দাঁড়াবে

Katpadi_Junction

হাওড়া স্টেশনে ২৩টি প্লাটফর্ম আছে। টিকিটেই লেখা থাকবে ট্রেনের নম্বর। প্রতিটি স্টেশনেই স্পিকারে বলা হবে কোন ট্রেন কোন প্লাটফর্মে দাঁড়াবে। আবার বড় বড় স্টেশনগুলোতে ডিসপ্লে বোর্ড আছে, সেখানেও দেখানো হয় কোন ট্রেন কোন প্লাটফর্মে দাঁড়াবে।

ট্রেন ছাড়ার ৪০-৪৫ মিনিট আগে থেকে ডিসপ্লে বোর্ডে দেখাবে। যাদের চলাচলে সমস্যা, তাদের জন্য স্টেশনে হুইল চেয়ার পাওয়া যেতে পারে। ছোট স্টেশনে দেখে নিন আপনার ট্রেনটি কোন প্লাটফর্মে দাঁড়াবে এবং আপনার বগিটি কোন জায়গায় দাঁড়াবে। স্টেশন মাস্টারের রুমের আশেপাশে নোটিশ বোর্ডে বিস্তারিত দেওয়া থাকে।

যে স্টেশনে নামবে

ভেলোরের জন্য যশবন্তপুর এক্সপ্রেস (কাটপাড়ি স্টেশনে নামতে হয়), চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতাল ও শঙ্কর নেত্রালয়ের জন্য চেন্নাই মেল ও করমণ্ডল এক্সপ্রেস।

টিকিট যদি ভেলোর পর্যন্ত হয়, তাহলে নামতে হবে কাটপাড়ি স্টেশন। অনেক সময় কলকাতা থেকে চেন্নাই পর্যন্ত টিকিট করা থাকে। কারণ সব ট্রেন কাটপাড়ি যায় না। সেক্ষেত্রে আপনাকে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে নামতে হতে পারে। আবার কোন কোন ট্রেন চেন্নাই এগমোর স্টেশনে নামিয়ে দেয়। সেখা

ন থেকে বাসে বা ট্রেনে ভেলোর যেতে পারেন। যদি চেন্নাই এগমোর স্টেশনে নামলে সেখান থেকে আবার চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে যান। এরপর চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে কাটপাড়ি পর্যন্ত ট্রেনে চলে যান। প্রয়োজনে কর্তব্যরত পুলিশদের সহায়তা নিন। আবার বড় স্টেশনগুলোতে হেল্প ডেস্কও আছে।

দেশের সাথে যোগাযোগ রাখবেন কিভাবে ?

দেশের সাথে যোগাযোগ জন্য আপনি এয়ারটেল (Airtel ) কিংবা ভোডাফোন ( Vodafone ) এর সিম কিনতে পারেন। এই সিম দিয়ে মোবাইলে কথা বলা এবং ইন্টারেনেট ব্যবহার করা যাবে। তবে সিম বর্ডারে না কিনে কলকাতাতে কিনুন।

ইন্ডিয়া থেকে

সাধারণত বাংলাদেশে কলরেট ১০ – ১২ রুপি (INR)। তবে এখানে সিমে প্রোমো রিচার্জ করে নেয়া যায় বাংলাদেশের জন্য যার মেয়াদ থাকে ৩০দিন। এইটা করলে কলরেট চলে আসে ২ রুপি প্রতি মিনিট।

ইন্ডিয়াতে

এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গেলে সিমে রোমিং চালু হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আপনি কল রিসিভ করলেও একটা চার্জ কাটা হয় ( প্রায় .৬০ পয়সা মত ) আপনি যদি ভেলোরে এসে সিম কেনেন তাহলে রোমিং চার্জ থাকবে না (তবে ভেলোরের বাইরে গেলে আবার এই সিমেও রোমিং চালু হবে )। 

কলকা

  • তার সিম হলে থাকবে। ইন্টারনেটের কোন রোমিং চার্জ নেই। যদি ভেলোরেই বেশি দিন থাকতে হয় তো সেখানেই একটি সিম কিনে নিতে পারেন।

কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করবেন:

ভেলোরে চিকিৎসা

ভেলোরে চিকিৎসা

ভেলোরে অনেক হাসপাতাল রয়েছে। নির্ভর করে রোগের এবং টাকার উপর। টাকা ভালো থাকলে যেতে পারেন এপোলোতে আর না থাকলে সিএমসি ছাড়াও শ্রি রামচন্দ্র বা নারায়নী হাসপাতালে যেতে পারেন। এসব হাসপাতালের সেবা অবশ্যই বিশ্বমানের।

ওয়েব লিংক

ভেলোরে থাকা

ভেলোর স্টেশনে নামার পর বাসে কিংবা অটোতে করে আপনি সি এম সি আসতে পারবেন। সি এম সির পাশেই বেশ কিছু হোটেল আছে । সেগুলোতে থাকতে পারেন । কিংবা সাইদাপেট এ ও থাকতে পারেন । হোটেল ভাড়া ১৫০ থেকে ৬০০ পর্যন্ত । সি এস সির পাশের হোটেলগুলোর ভাড়া একটু বেশি তবে, সাইদাপেট-এর এই পাশটায় ভাড়া একটু কম ।

হোটেল মেনেজারের সাথে যোগাযোগ করলে রান্নার সরঞ্জামও পাবেন। নিজে রান্না করে খাবার জন্য। বাঙালি হোটেলও আছে কিছু।যে হোটেল বা লজ এ থাকুন, হোটেল/লজ এর পেমেন্ট স্লিপগুলো ঠিক মত কালেক্ট করুন এবং সাথে রেখে দিন । পরবর্তি ঝামেলা এড়তে এগুলো কাজে দেবে ।

কোন ভাষায় কথা বলবেন?

যেহেতু ভেলোর তামিলনাড়ুতে সেহেতু সেখানের মানুষরা তামিল ভাষাতে কথা বলতে বেশি পছন্দ করে। যেহেতু চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রোগীরা ভেলোরে আসে সেজন্য বাংলা, হিন্দি কিংবা ইংরেজি ভাষা চলে। CMC র ডাক্তার ও কিছু কিছু বাংলা বোঝেন এবং বলেন। তবে তামিল ভাষার পর ইংরেজি ও হিন্দি ভাষা বেশি চলে ।

সি এম সি, ভেলোর


Spread the love
  • 829
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    829
    Shares

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *