LOADING

Type to search

সর্পিণী সাজেক সুন্দরী!

সর্পিণী সাজেক সুন্দরী!

Mukta 31/05/2018
Share
Spread the love
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    30
    Shares

জানুয়ারীতে কেওক্রাডং এর পর বড়সড় একটা রিল্যাক্স ট্যুরের জন্য “জিপসী” গ্রুপের মেয়েগুলো ঘ্যানর ঘ্যানর করছিলো অনবরত! শেষমেষ মেঘলা সুন্দরী সাজেক ভ্যালিতে বৈসাবি পালনের জন্য যাওয়ার প্ল্যান হলো।

প্রায় ১৪ দিন আগে গিয়েও শ্যামলি, হানিফ,সেন্টমার্টিন,ঈগল কোত্থাও একখানা টিকিট পাওয়া গেলোনা! পরে শান্তি পরিবহনের ৯ খানা টিকিট নিয়ে নিলাম। ফেরার টিকিটও নিয়ে নিলাম কারন আমরা যাচ্ছি ১২ এপ্রিল আর ফিরবো ঠিক বৈশাখের দিবাগত রাতে ১৪ এপ্রিল। ওখানে গিয়ে ফেরার টিকিট পাবোনা জানা কথাই। নিজে সহ ৯ টা মেয়েকে নিয়ে বিপদে পড়তে কে চায়।

ট্যুর ছিলো ২ দিন ৩ রাতের।

প্রথমদিনের লিষ্টে  ছিলো: ঝুলন্ত ব্রীজ, ঘুটঘুটে রহস্যময় আলুটিলা গুহা ,তারেং, হাজাছড়া ঝর্ণা, পানছড়ি বৌদ্ধবিহার

*ঝুলন্ত ব্রীজ: খাগড়াছড়ি শহর থেকে কাছেই। কাঠের তক্তায় বানানো দীর্ঘ সেতুটি যদিও হেলেদুলে উঠছিলো সামান্যতেই,, এর ওপর ওঠে চারপাশে অসাধারন ভিউ নজর কেড়ে ভয় দূর করে দেবে এক নিমিষে!!

*আলুটিলা গুহা: মশাল নিয়ে গিয়েও এত অন্ধকার গুহায়! অনেকজন না থাকলে একটু ভয়ই লাগতো, তারওপর গুহার ভেতর গিয়ে বামে যাবো না ডানে ওঠবো তাতেও দ্বিধাদন্দ্ব! গুহার হাটা পথটায় পানি যাচ্ছি ঝিরঝির করে, পানি জমে আছে কোথাও,, আবছা মশালের ছায়াময় আলোয় জমাট পানি দেখে এনাকোন্ডা মুভীর বিগ বিগ সাইজ এনাকোন্ডা গুলোর কথা মনে আসছিলো! না থাকুক এক দুইখান ঢোরা সাপ ই তো এনাফ পিলে চমকে দেয়ার জন্য

এসব ছিলোনা যদিও, গুহাটা অনেক ভদ্র!

পর্যটকদের ঘুরে দেখার জন্য আদর্শ জায়গা। গুহা ছেড়ে বের হয়ে পাহাড়ী আনারস আর ডাবের স্বাদ মনে থাকবে অনেকদিন!

*তারেং: তারেং টা অসাধারন। উপর থেকে মিনি মিনি ঘরবাড়ি গাছ চোখে পড়ে! পুরো খাগড়াছড়ি শহর টা এক ঝলকেই দেখা যায় এখান থেকে।

*হাজাছড়া: ঝর্ণা আসলে বর্ষায় বেষ্ট। তবে একদমই যে মজা হয়নি তাও নয়, এরকম রিল্যাক্স ট্যুরে অল্প পানিতে কিছুক্ষন ডুবোডুবি ততটা খারাপও তো লাগে নাহ।

*পানছড়ি বৌদ্ধবিহার: এশিয়ার সর্ববৃহৎ বৌদ্ধবিহার এখানে। খাগড়াছড়ি শহর ছাড়িয়ে আঁকাবাকা সর্পিল পথ পেরিয়ে বিশাল সবুজ বনায়নে ঘেরা এই বিহার মন ছুয়ে দেবে অবলীলায়! প্রতিদিন শত শত প্রার্থনাকারী আসছেন মনোবাসনা নিয়ে। যাচ্ছেন টুরিষ্টরাও। খেয়াল রাখতে হবে যেনো হৈ চৈ করে প্রার্থনার বিঘ্ন না ঘটে। সকল ধর্মের প্রতিই সম্মান দেখানো উচিত আমাদের।

*সর্বশেষ সাজেকের পথে: রাস্তাটা ভয়াবহ রকমের আকাবাকা সুন্দর! যদিও গত বছরের থেকে এই বছর রাস্তা নাকি খারাপ হয়ে গেছে, তাও চান্দের গাড়ি ড্রাইভার ওগুলো জায়গা একটু সাবধানে গেলেই হয়।

সাজেকে হীল কটেজে ছিলাম আমরা। কটেজটা চমৎকার। সামনে মস্তবড় একটা বট বৃক্ষ যার নিচে রাতভর ঘুটঘুটে আধারে ভুতের গল্পের আড্ডা দিলে অসাধারন অনুভূতি আসতো!

আমরা অবশ্য কটেজের ভেতরেই গল্প করেছিলাম… রাতে বার্বিকিউ গাছতলায় ই বেটার। আর ফানুস উড়ানোর জন্য হ্যালি প্যাড। উৎসব টাইম ছিলো তো সবকিছুই দামে বেশি বেশি!

সাজেকে প্যাকেজ খাবার পাওয়া যায়, অনেকজনের বড় গ্রুপ হলে প্যাকেজটাই বেটার। যেমন, সকালের নাস্তায় রুটি,ডিম,সবজি থাকে একসাথে প্যাকেজে। আর ওখানকার ট্র্যাডিশনাল খাবার যেহেতু ব্যাম্বো চিকেন, ওটা ডিনারে রাখা যায়।প্রতি ব্যাম্বো ৫০০৳ করে নেয়,  উৎসব বিহিন সময়ে একটু কম রাখবে।

শুধুই মেয়েদের নিয়ে ফেইসবুক ভিত্তিক নতুন গ্রুপ “জিপসী (The Travellers)….

এক বছর হতে হতেই ঘুরছি বাংলার আনাচে কানাচে যতটা সম্ভব। আশা করছি দূর্গম জায়গা গুলোতেও একটা সময় নারী ট্র্যাভেলারদের পদচারনা হবে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে।

*** এক সাজেকেই পথে পথে এত এত ময়লার ঢিবি দেখে আমরা আতঙ্কিত! আমরা বাঙালিরা কেমন চিড়িয়া হলে নিজেরাই নিজেদের প্রাকৃতিক পরিবেশ গুলোকে সম্পদে পরিনত না করে বর্জ্যে ভরিয়ে ফেলছি!

আপনিও শেয়ার করুন আপনার মজার মজার সব ভ্রমণ কাহিনী সবার সাথে। হয়ে যান একজন লেখক।

লিখুন এখানে

সাজেক ভ্যালী


Spread the love
  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    30
    Shares
Tags:
Mukta

have nothing special to say!

    1

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *